পাবনায় হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় টিকাদানকেন্দ্রে ভিড় বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়া অনেক শিশুও এখন টিকা নিতে কেন্দ্রে আসছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক টিকার ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে।
জেলা শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত টিকাদানকেন্দ্রটি হলো পাবনা পৌরসভা কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সেখানে দেখা গেছে, একতলা ভবনের সামনে ত্রিপল টানিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। পুরো জায়গাটি মানুষে ঠাসা, এবং ভ্যাপসা গরমে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
শালগাড়িয়া মহল্লার খাইরুল ইসলাম বলেন, তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলে সুলতান মোহাম্মদকে টিকা দিতে বহুবার কেন্দ্রে এসে হতাশ হয়েছেন। আজ টিকা পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। গোবিন্দা মহল্লার সালেহা খাতুনও একই কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে শিবরামপুরের জান্নাতুল ফেরদৌস জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের পোলিও টিকা কেন্দ্র থেকে নেই বলে ফিরে যেতে হয়েছে।
টিকাদানকর্মী শাহারা খাতুন জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে হামের টিকার ঘাটতি ছিল। তবে বুধবার বিকেলে ২৬৪ ভায়াল হামের টিকা এসে পৌঁছেছে, যা দিয়ে ১ হাজার ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়া যাবে। শুধুমাত্র আজ দুই ঘণ্টায় প্রায় ১০০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান টিকার পরিমাণ দুই থেকে তিন দিন পর্যাপ্ত হবে।
পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, “গত কয়েক মাস হামের টিকার ঘাটতি থাকায় অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পাননি। এখন টিকা এসেছে, যা কয়েক দিন চালানো যাবে। তবে পোলিও টিকার ঘাটতি রয়েছে, ফলে কিছু শিশু ফিরছেন। হামে আক্রান্ত শিশু বেড়ে যাওয়ায় টিকাদানকেন্দ্রে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।”
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ হয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ দিনে ভর্তি হয়েছে ৫০ জন, এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন নতুন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৩ জন চিকিৎসাধীন।
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, “হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় টিকার চাহিদা বেড়েছে। তবে ২১,৪৯০ ডোজ টিকা মজুত আছে, এবং আগামী রোববার নতুন টিকা আসার কথা রয়েছে। আশা করি, টিকাদানের ক্ষেত্রে আর কোনো সমস্যা হবে না।”
সিএ/এমই


