কুষ্টিয়া, কুমারখালী – বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ জোগাড় হওয়ায় হাসি ফুটেছে কুমারখালীর তরুণ ওমর ওসমানের মুখে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় একটি পার্কে ওমরের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনার জন্য আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রথম আলোতে তাঁর পরিস্থিতি তুলে ধরা হওয়ার পর দেশ–বিদেশ থেকে অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ওমর ওসমান বলেন, “প্রথম আলোতে আমার খবর প্রকাশ হওয়ার পর অনেকেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এখন আর আমি মাঠে শ্রমিকের কাজ করতে যাইনি। ধন্যবাদ জানাই।”
মাহিষাখোলা গ্রামের গৃহিণী ফাতেমা খাতুন ও মৃত খবির উদ্দিন দম্পতির বড় ছেলে ওমর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি, তাই তিনি দিনমজুরির কাজ করছিলেন।
সরাসরি সাহায্যের অংশ হিসেবে স্বপ্ন সুপার শপ পরিবারের পক্ষ থেকে ওমরের হাতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা ফাতেমা খাতুন, ছোট ভাই রাফিউল এবং স্বপ্ন সুপার শপের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রাসেল আল মামুন।
এছাড়া কুমারখালীর আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন ওমরকে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি, দুই সেট পোশাক এবং তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান করবে। ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, “ওমর যতদিন পড়াশোনা করবেন, ততদিন এই সহায়তা চলবে।”
দেশ–বিদেশ থেকে আরও ২১ হাজার টাকা অনুদান পাঠানো হয়েছে। আবেগপ্রবণ হয়ে ওমরের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, “প্রথম আলোতে খবর প্রকাশের পর আর কোনো টেনশন নেই। অনেকেই ফোন করে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে।”
ওমর বলেন, “৫ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হতে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে অসহায়দের পাশে দাঁড়াব।”
সিএ/এমই


