রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ২টা থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা ২টার মধ্যে উভয় শিশুই মারা যান। এই ঘটনায় হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ শিশু চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। ওই জেলার ৪৭ জন শিশু বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া রাজশাহীর ২৬, নওগাঁর ৪, কুষ্টিয়ার ১২, নাটোরের ৪, পাবনার ৪ এবং মেহেরপুরের একজন শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ৩৫ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ হিসেবে শিশুদের শরীরে র্যাশ, জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং চোখের ইনফেকশন দেখা গেছে। শ্বাসকষ্ট বেশি রোগীদের জন্য আইসিইউয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, হাম আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে। এটি উদ্বেগজনক কারণ সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে সরকার ৬ মাস বয়স থেকেই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাম যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসোলেশন কর্নার চালু করা হয়েছে। হাম থেকে জটিলতা বৃদ্ধি পেলে আইসিইউ প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য জনবলসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সিএ/এমই


