রাঙামাটিতে রুটিন অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অবৈধ মজুত রোধে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এসব পাম্পে ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে।
শহরের চারটি পাম্প ঘুরে দেখা যায়, ভোর পাঁচটা থেকেই গ্রাহকেরা ট্যাংক, গ্যালন ও প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। যদিও বিক্রি সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। অনেকেই আগেভাগে সিরিয়াল পেতে ভোরে পাম্পে এসে হাজির হয়েছেন।
রাজবাড়ী এলাকার একটি পাম্পে বরকল থেকে নৌকা চালানো ও পেঁপেখেতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেল নিতে আসা শরৎ কুমার চাকমা জানান, নির্ধারিত সীমার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম জ্বালানি পেয়েছেন।
পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ট্যাংকে ১০ লিটার ও যানবাহনে ২০ লিটার করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন ও প্রমাণ সাপেক্ষে কখনো বেশি দেওয়ারও ব্যবস্থা আছে। উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ কম হওয়ায় শহরের পাম্পগুলোতে চাপ বেড়েছে।
কল্যাণপুর তান্যাবি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সুফল চাকমা বলেন, নির্ধারিত সময়ে ৩ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছে। সময়সূচি মেনে বিক্রি হওয়ায় চাপ কিছুটা কমলেও অনেক গ্রাহক তেল ছাড়াই ফিরে গেছেন।
বনরুপা মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল বলেন, সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
রিজার্ভ বাজার মেসার্স মহসিন স্টোর পাম্পের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল বাতেন জানান, গতকাল চার হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হয়েছে এবং আজ চার হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে।
পাম্প ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অবৈধ মজুত রোধ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য এবং বেলা দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত সরকারি দপ্তরের গাড়ির জন্য জ্বালানি বিক্রি করা হবে।
জেলার ১০ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় অর্ধেক। পর্যটন মৌসুমে কিছু এলাকায় চাহিদা বেড়েছে। সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকিতে গঠিত ভিজিল্যান্স টিমের জেলা আহ্বায়ক নিশাত শারমিন বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে রুটিন পদ্ধতিতে বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এছাড়া পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
সিএ/এমই


