ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শনিবার দুপুরে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে প্রচুর রোগী ভর্তি রয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে। চলতি ১১ দিনে এখানে ১০৫ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিনটি পৃথক কক্ষে ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেক কক্ষে একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কক্ষগুলোতেও রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার বাইরে, এক বিছানায় দুই শিশুর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৪৬ শিশু চিকিৎসাধীন।
ওয়ার্ডে থাকা মা মিম আক্তার জানান, তাঁর পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে মরিয়ম আক্তার ঈদের আগে থেকে জ্বর নিয়ে আক্রান্ত ছিল। শেরপুর থেকে আসা জহিরুল ইসলামের ৯ মাস বয়সী ছেলে এবং গৌরীপুরের মুসাআব নামের শিশুও ভর্তি। কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে যমজ দুই সন্তানও হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি, কাশি, সরাসরি সংস্পর্শ বা কথা বলার মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জটিলতার কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে ও মাথায় প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মাজহারুল আমিন বলেন, হামের টিকা নিয়েছে বা নেয়নি—উভয় ধরনের রোগীই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এখনও কোনো রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ার পরিস্থিতি হয়নি। তিনটি আলাদা কর্নার হলেও রোগীর চাপের কারণে সবকে আইসোলেশনে রাখা যাচ্ছে না।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৬ জন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটে ২৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন। চলতি মাসে মোট ১০৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত রোগীদের সাধারণ রোগীদের থেকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা করছে। হঠাৎ হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, টিকাদানের অনিয়ম এবং সম্প্রতি বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে টিকা সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে যাতে সাধারণ রোগীদের সংস্পর্শে না আসে। প্রয়োজনে আইসোলেশনের জায়গা বৃদ্ধি করা হবে। ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহ্মেদ জানিয়েছেন, জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও শিশুদের জন্য ‘ডেডিকেটেড ফিবার ক্লিনিক’ চালু করা হয়েছে।
সিএ/এমই


