সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করা হলে তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এতে রাজনৈতিক আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে জাতীয় নাগরিক পার্টির নারায়ণগঞ্জ মহানগরের প্রথম সাধারণ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। মহানগর আহ্বায়ক শওকত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ্ আল আমিন।
নাহিদ ইসলাম জানান, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে মতামত দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিএনপি নিজেও এই গণভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে এবং দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে একজন ইউএনও বিতর্কের মধ্যে পড়লেন, তাঁকে বদলি করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক শেখ মুজিবুর রহমানকে বলা আছে। জিয়াউর রহমানকে সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক বলতে পারেন না। সংবিধানের ইচ্ছা কোথাও মানছেন, আবার কোথাও মানছেন না—এই দ্বিচারিতা জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।’
গণভোটের রায় দ্রুত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘যদি এর ব্যতয় ঘটে এবং তারা সাংবিধানিক দোহাই দেয়, তাহলে এটা জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে না। এটা রাজনৈতিক আস্থার সংকট তৈরি করবে। তখন এই জিনিস রাজপথে গড়াবে। এটা যাতে রাজপথে না গড়ায়, সংসদে সমাধান হয়, এটার দায়িত্ব সরকারি দলকে নিতে হবে, যেহেতু তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আছে।’
সরকারি দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) সংবিধানকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে, তাদের পক্ষে গেলে তারা সংবিধানের পক্ষে আছে, তাদের বিপক্ষে গেলে তারা সংবিধানের পক্ষে নেই।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘এই দ্বিচারিতা ও সংবিধানকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করার রাজনীতি আমরা কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ আমলে দেখেছি। আওয়ামী লীগ একইভাবে সংসদকে কবজা করে সংবিধানকে দলীয়করণ করেছে। সংবিধানকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছে। সেই একই কাজ এখন সরকারি দল তাদের মধ্যেও দেখতে পাচ্ছি। সেই প্রবণতা যদি থাকে জনগণ তাদের রায় আবারও রাজপথের মাধ্যমে জানান দেবে। আমাদের সংগ্রাম সংসদ ও রাজপথ—সব জায়গায় থাকবে।’
আওয়ামী লীগের সময়কার নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নারায়ণগঞ্জ মাফিয়া এলাকা হিসেবেই রাজনীতিতে পরিচিত ছিল। এখানকার রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করত এখানকার গডফাদাররা। সেই মাফিয়া গডফাদাররা ৫ আগস্ট গণ–অভুত্থ্যানে পরাজিত হয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়েছে। এখানে নতুন করে যাতে কোনো গডফাদার তৈরি না হয়।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা আহ্বায়ক জুবায়ের সরকার, সদস্যসচিব জোবায়ের হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নীরব রায়হান, মহানগরের সদস্যসচিব আশিকুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সিএ/এমই


