একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী লোক উৎসব। আজ শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলার দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের মাঠে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করছে জেলা প্রশাসন।
প্রতিবছরের মতো এবারও শাহ আবদুল করিমের বাড়ির পাশের কালনী নদীর তীরে এ উৎসবের আয়োজন করেছে শাহ আবদুল করিম পরিষদ। তাঁর জীবনদর্শন, দর্শনচিন্তা ও সংগীতসৃষ্টি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত ও অনুরাগীরা সুনামগঞ্জে সমবেত হন।
শাহ আবদুল করিম পরিষদের সভাপতি ও শিল্পীর একমাত্র ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল জানান, এবারের আয়োজন জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, লেখক-গবেষক, জনপ্রতিনিধি ও সংগীতশিল্পীরা উপস্থিত থাকবেন। উৎসবের দুই দিন বিকেলে বাউলসম্রাটের জীবন, দর্শন ও সংগীতকর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পরিবেশিত হবে তাঁর জনপ্রিয় গান। শিষ্য-অনুরাগীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীরাও এ আয়োজনে তাঁর গান পরিবেশন করবেন।
শাহ নূর জালাল বলেন, শাহ আবদুল করিমের সৃষ্টির ভেতর মানুষ, সাম্য ও প্রেমের শক্তিশালী বার্তা রয়েছে। কালনী নদীর তীরের পরিবেশে বসেই সহজ-সরল ভাষা এবং মাটির ঘ্রাণমাখা সুরে তিনি অসংখ্য কালজয়ী গান রচনা করেছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সংগীত ও দর্শন তুলে ধরতেই এ উৎসব আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, শাহ আবদুল করিমের গান মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং শুভ ও সুন্দর জীবনের পথে অনুপ্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্ম যেন তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন।
২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এ লোক উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। উৎসব ঘিরে উজানধল গ্রাম ভক্ত-অনুরাগীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় গান রচনা করেন। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।
সিএ/এমই


