চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চলন্ত অবস্থায় চট্টলা এক্সপ্রেস নামের যাত্রীবাহী ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনার চার ঘণ্টা পর ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। এর আগে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি গেটসংলগ্ন এলাকায় ট্রেনটিতে আগুন লাগে।
অগ্নিকাণ্ডে ট্রেনটির একটি পাওয়ার কার এবং একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনে পুড়ে যাওয়া পাওয়ার কারটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগি আলাদা করে চট্টগ্রামের রেলওয়ে মেরামত কারখানায় পাঠানো হয়েছে। বাকি অক্ষত বগিগুলো নিয়েই ট্রেনটি পরে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে, যা নগরের ফৌজদারহাট রেলস্টেশন থেকে ধারণ করা। ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি ফৌজদারহাট স্টেশন অতিক্রম করার সময় বগির একাংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। প্ল্যাটফর্মে থাকা চারজনের মধ্যে দুজন আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে ট্রেনের যাত্রীদের সতর্ক করার চেষ্টা করেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান জানান, আগুন লাগার পর ট্রেনটির অক্ষত বগিগুলো প্রথমে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে নেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম থেকে দুটি বগি এনে সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং এরপর ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বগি দুটি মেরামতের জন্য চট্টগ্রামের রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য অন্যান্য ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়ে। দুর্ঘটনার কারণে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসকে ফৌজদারহাট স্টেশনে প্রায় ৩৫ মিনিট এবং ভাটিয়ারি স্টেশনে ৮ মিনিট আটকে রাখা হয়। একই সঙ্গে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটিও অন্তত ১০ মিনিট বিলম্বে চলাচল করে।
ফৌজদারহাট স্টেশনে অপেক্ষমাণ পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রী জমির উদ্দিন জানান, তিনি এক স্বজনকে নিয়ে সিলেট যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তাঁদের ট্রেনটি ফৌজদারহাট স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়, কারণ দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি তখনো লাইন ছাড়েনি।
ফৌজদারহাট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নিতীশ চাকমা বলেন, ‘সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে চট্টলা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এরপর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিও তাঁরা ছেড়েছেন।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, ট্রেনে আগুন লাগলেও কোনো যাত্রী বা তাঁদের মালামালের ক্ষতি হয়নি। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


