ঈদুল ফিতরের আনন্দের মুহূর্তে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে আবদুস সালাম মোড়লের পরিবারে নেমেছে গভীর শোক। মাত্র এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে ছিল বিয়ের আনন্দ, অথচ এখন সেখানে শোক, কান্না আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা ছাড়া আর কিছু নেই।
গত বুধবার রাতে আবদুস সালামের বড় মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের বিয়ে হয় বাগেরহাটের মোংলার বাসিন্দা আহাদুর রহমানের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের পরদিন নবদম্পতিসহ ১৪ জনকে নিয়ে রওনা হওয়া গাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় মাইক্রোবাসের সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় আবদুস সালাম হারান দুই মেয়ে, জামাতা, বৃদ্ধা মা ও শাশুড়িকে। তাঁর একমাত্র ছেলে ইসমাইল ছাড়া আর কোনো সন্তান বেঁচে নেই।
সালাম মোড়ল কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমার দুই মেয়ে, মা আর শাশুড়ি—সবাই মারা গেছে। আমার তো মা বলে ডাকার মতো আর কেউ নেই। এই ঈদটা হওয়া উচিত ছিল জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ঈদ। নতুন জামাই-মেয়ে নিয়ে একসঙ্গে ঈদ করব। কিন্তু সব শেষ।”
ছোট মেয়ে লামিয়া আক্তারের কথা বলতে গিয়ে আবদুস সালাম আরও আবেগাপ্লুত হন। লামিয়ার বয়স মাত্র ৯ বছর; সে তিন রোজা রেখে মারা গেছে। তার পছন্দ করা জুতা এখন আছে, কিন্তু মেয়েটি নেই।
এ অবস্থায় সালাম মোড়লের স্ত্রীও শোক সামলাতে পারছেন না; অসুস্থ হয়ে স্যালাইন নিতে হয়েছে। প্রতিটি ঈদের মুহূর্ত—সাহরির সময়, ইফতারের সময়—স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে আনে কষ্ট ও বেদনা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নৌবাহিনী খুলনায় নিয়ে গিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করাবে, তবে আবদুস সালাম কোনো সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “দুই রাত কিছু খাইনি, না খেয়ে রোজা রাখছি। খাইতে গেলে ওদের বড্ড মনে পড়ে। আল্লাহ যেন এমন পরীক্ষা আর কাউকে না দেন। আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”
সিএ/এমই


