চট্টগ্রামে অপহরণের দেড় মাস পর মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া দুই কিশোরকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার ( ১৭ মার্চ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অপহরণের পর দুই কিশোরকে কক্সবাজারের টেকনাফ হয়ে সমুদ্রপথে প্রথমে থাইল্যান্ড এবং পরে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে তাদের আটকে রেখে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, নগরের চান্দগাঁওয়ের মৌলভী পুকুরপাড় এলাকার ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর গত ১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হয়। তারা প্রতিবেশী এবং একটি গ্যারেজে কাজ করত। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করলে ২৬ ফেব্রুয়ারি চান্দগাঁও থানায় মানব পাচার আইনে মামলা করা হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ প্রথমে আবদুল কাদের ও ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরের দক্ষিণ মতলব এলাকা থেকে মো. মিলন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মো. মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোস্তফাকে এই পাচার চক্রের মূল সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আদালতে জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে কৌশলে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া থেকে দুই কিশোরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় বলে দাবি করা হয়। তবে কবে এবং কীভাবে তাদের দেশে আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় সর্বশেষ মঙ্গলবার টেকনাফের বড়ইতলীর পাহাড়ি এলাকা থেকে রোহিঙ্গা সাব মিয়া, শাহ আলম ও মোহাম্মদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, মালয়েশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার পর ওই তিনজনের কাছেই দুই কিশোর ছিল।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন মামুন জানান, উদ্ধার হওয়া দুই কিশোর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, অপহরণের পর তাদের কক্সবাজারে নেওয়া হয় এবং টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় পাঁচ থেকে সাত দিন আটকে রাখা হয়। এরপর সমুদ্রপথে প্রথমে থাইল্যান্ড এবং পরে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল, যদিও পরিবারটি অর্থ জোগাড় করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, বুধবার ( ১৮ মার্চ) দুই কিশোরকে আদালতে হাজির করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে।
সিএ/এমই


