রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা তিনটার দিকে জেলায় ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। এ তাপমাত্রার কারণে শহরজুড়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটিকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসাবে রাজশাহীতে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার বেলা তিনটায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এদিন জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক তারেক আজিজ বলেন, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোজার মধ্যে হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নগরজুড়ে জনজীবনে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হতে হচ্ছে। দুপুরের দিকে নগরের বড় বিপণিবিতান আরডিএ মার্কেটে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। তবে প্রচণ্ড গরমে অনেককে ক্লান্ত ও হাঁপিয়ে উঠতে দেখা গেছে।
নগরের বাসিন্দা আবু রায়হান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে গরম বাড়ছে। আজকের গরমটা অনেক বেশি। মনে হচ্ছে, গা পুড়ে যাবে। ঈদের কেনাকাটা করতে এসে শরীরটা ঝিমিয়ে গেছে।’
নগরের আলুপট্টি মোড়ে আখের রস বিক্রি করেন রাকিব ইসলাম। তিনি বলেন, এবার রোজা শুরু হয়েছিল শীতের মধ্যে। এখন গরম অনেক বেড়েছে। রোজার মধ্যে ইফতারে মানুষ ঠান্ডা পানীয় খেতে চান। তাই গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আখের রসের বিক্রিও বেড়েছে।
বিকেলের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক রিকশাচালককে গাছতলায় রিকশা রেখে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। যাত্রীও কম। আজ খুব রোদ। তাই ছায়ায় বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।’
সিএ/এমই


