কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ভেসে এসেছে বড় আকৃতির একটি মৃত ডলফিন। শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা দেড়টার দিকে জোয়ারের পানিতে ডলফিনটি সৈকতে ভেসে আসে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি সৈকতের বালুচরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফ গার্ডের কর্মীরা প্রথম ডলফিনটি দেখতে পান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা ডলফিনটির দেহ আংশিকভাবে পচে গেছে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
সি-সেফ লাইফ গার্ডের কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, ছয় ফুট লম্বা অর্ধগলিত মৃত ডলফিনটি জোয়ারের পানিতে সুগন্ধা সৈকতে ভেসে আসে। তখন সৈকতে তেমন পর্যটক ছিল না। ডলফিনের মুখের অংশ কিছুটা ঠিক থাকলেও পেট থেকে লেজের দিকের অংশ পচে গেছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
লাইফগার্ড সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ জানান, কয়েক দিন আগে গভীর সাগরে বিচরণের সময় কোনো বড় জাহাজ বা মাছ ধরার ট্রলারের প্রপেলারের আঘাতে ডলফিনটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরে জোয়ারের পানিতে এটি সৈকতে ভেসে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এর আগেও ছোট আকারের কয়েকটি ডলফিন সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভেসে এসেছে।
তিনি আরও জানান, গত তিন মাস ধরে সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য মৃত মা কাছিমও ভেসে আসছে। সমুদ্রে পুঁতে রাখা মাছ ধরার বিভিন্ন জালে আটকা পড়েই অধিকাংশ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, প্রায় ছয় ফুট লম্বা মৃত ডলফিনটির ওজন তিন থেকে চার মণ হতে পারে। তাঁর মতে, এটি ইরাবতী জাতের ডলফিন এবং জাহাজের ধাক্কা বা প্রপেলারের আঘাতে এর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, পচন ধরায় ডলফিনটির দেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দ্রুত মাটিতে পুঁতে ফেলা না হলে পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
দীপক শর্মা আরও বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত বন, পরিবেশ বা মৎস্য বিভাগের কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে যাননি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
এর আগে ছয় দিন আগে কক্সবাজারের সাগরদ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া সৈকতে একটি মৃত তিমি মাছ ভেসে এসেছিল। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সেটি বালুচরে পুঁতে ফেলা হলেও গত বুধবার বিকেলে জোয়ারের ধাক্কায় বালু সরে গিয়ে তিমিটির কিছু অংশ আবার দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। পচে যাওয়া ওই তিমি থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দা ও সৈকতে আসা দর্শনার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
সিএ/এমই


