চট্টগ্রামের সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী। তিনি জানুয়ারি মাসে ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনাল বিচারক কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে মামলাটি হয়েছে। বাদীর আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, আদালত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৬ (১) ও ২৬ (২) ধারার ভিত্তিতে অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ, চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ৪ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আসার সময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলা, ভাঙচুর এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী আন্দোলনকারীদের শারীরিক লাঞ্ছনা ও নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরা হয়। বাদী অভিযোগ করেছেন, এরপর অভিযুক্ত সাতজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন, যা বিভিন্নজন শেয়ার ও মন্তব্য করেছেন।
দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রথম আলোকে বলেন, সাংবাদিকরা হামলার সঙ্গে জড়িত নন। উল্টো ওই ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন বাদী রিদুয়ান সিদ্দিকী ও তাঁর সহযোগীরা। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার প্রতিবাদ করায় রিদুয়ান ও তাঁর সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট করছেন, যা তার নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাদী রিদুয়ান সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কাউকে হুমকি দেননি বরং অভিযুক্ত সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। তিনি জানিয়ে দেন, গত ১৫ জানুয়ারি তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন এবং সেখানকার স্থানীয় নেতারা তাকে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মামলাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং রিদুয়ান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা ও সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
সিএ/এমই


