শরীয়তপুর জেলার ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। জেলার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের দায়িত্বে থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। তাঁদের উদ্যোগ ও নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, পুলিশ সুপার রওনক জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাদিয়া জেরিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমি মান্নান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শারমিন আক্তার, জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভিন, জেলা কারাগারের কর্মকর্তা আসমা আক্তার, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক সুপ্রিয়া বর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নাজনীন শামীমা, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক উম্মে কুলসুম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন, গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুশরাত আরা খানম, নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহের আফরোজ সুবর্ণা ও নুসরাত জাহান আরবী দায়িত্ব পালন করছেন।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ২০২৫ সালের জুলাইতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ২০০৬ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেওয়ার পরই তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। শহরের ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে তিনি নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেছেন। তাহসিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করার সুযোগ আমার কর্মজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা। জেলা প্রশাসনের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রের সব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় করা একদিকে যেমন বিশাল দায়িত্বের ও চ্যালেঞ্জের, তেমনি অত্যন্ত গর্বের। সরকারি নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারীর প্রতি বৈষম্য নিরোধ, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা তদারকি, নারীশিক্ষার বিস্তার, নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে নারীকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসক হিসেবে অবদান রাখতে পারা আমার বর্তমান কর্মজীবনের অন্যতম সার্থকতা বলে মনে করি।’
পুলিশ সুপার রওনক জাহান ২৭তম বিসিএসের কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি শরীয়তপুরে যোগ দেন এবং জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন। আগের পদে যশোর পুলিশ সুপার এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিন মাসে জাজিরার বিলাশপুরে ককটেল তৈরির কারখানা সনাক্ত, অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার এবং খোকন দাস হত্যা মামলার সকল আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার নেতৃত্বে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশের চাকরি অনেক চ্যালেঞ্জিং পেশা। তারপরও দায়িত্ব পালনে সফল হওয়ার চেষ্টা করি। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মানুষকে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে নারীদের আইনি সুরক্ষার কথা বেশি মাথায় রাখি।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাদিয়া জেরিন ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে যোগ দেন। ৩৩তম বিসিএসের কর্মকর্তা তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। জেলার বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন। তিনি সকল নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্বকে কর্মজীবনে প্রাধান্য দেন। নুশরাত আরা খানম ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর গোসাইরহাট ইউএনও হিসেবে যোগ দেন। জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভিন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে, পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক সুপ্রিয়া বর ২০২৪ সালের জুলাই থেকে, নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার লাকী দাস ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহের আফরোজ ও নুসরাত জাহান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক উম্মে কুলসুম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে, জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নাজনীন শামীমা ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে, এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে দায়িত্বে আছেন।
জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমার জীবনে সবচেয়ে বড় উপলব্ধি হচ্ছে, প্রত্যেক নারীকে পড়ালেখা করে স্বাবলম্বী হতে হবে। যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে নারীদের জীবনে অনিশ্চয়তা আসতে পারে। তখন স্বাবলম্বী নারীকে কোনো বাধা আটকে রাখতে পারে না।’
সিএ/এমই


