কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়ার হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে উপস্থিত হন।
১০ বছর বয়সী ইফফাত তাইবা বলেন, ‘আমাদের মাকে ফিরাই দেন। তা না হলে মায়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি দিন। আমার ভাইবোনগুলো রাতে ঘুমাতে পারে না। আমাদের মা রাতে কত আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দিত। আমাদের মাকে কোথায় পাব?’ ইফফাত আসমা সাদিয়ার বড় মেয়ে। বাবা ইমতিয়াজ সুলতান ও অন্য তিন সন্তান জান্নাতুল বুশরা (৭), আবরার সাজিদ (৩) ও আয়েশা (১৩ মাস) মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য সময় বেঁধে দেন। তা না হলে আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান অভিযোগ করেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসিসহ তদন্ত কর্মকর্তাকে বিশ্বাস করতে পারছি না। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে। তাঁদের প্রতি আস্থা নাই।’
গত বুধবার বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা (৩৫) নিজ দপ্তরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই সময়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান (৩৫) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আসমার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান গত বুধবার দিবাগত রাতে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, বিভাগের দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী খন্দকার ফজলুর রহমান আসমা সাদিয়াকে হত্যা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরাও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার। সম্প্রতি তাঁকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে ওই স্থানে বদলি করা হয়। ৩ ও ৪ নম্বর আসামি যথাক্রমে সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান। শ্যাম সুন্দর আগে আসমা সাদিয়ার বিভাগের সভাপতি ছিলেন।
সিএ/এমই


