জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় জমে উঠেছে শতাব্দীপ্রাচীন ঘোড়ার হাট। পছন্দের ঘোড়া ঘিরে দর-কষাকষি, বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রায় পাঁচ শতকের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘোড়া নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা, যা ঘিরে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, এবারের মেলায় বেশ কিছু ঘোড়া আনা হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কাড়ছে ধূসর রঙের একটি বড় আকৃতির ঘোড়া। উঁচু ও লম্বা গড়নের এই ঘোড়াটির নাম রাখা হয়েছে ‘যুবরাজ’। ভারতীয় তাজি জাতের এই ঘোড়ার দাম হাঁকা হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত ঘোড়াটি বিক্রি করেননি মালিক।
ঘোড়াটির মালিক নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বাসিন্দা শাহরিয়ার ইসলাম সাগর। তিনি জানান, ধূসর রঙের ঘোড়াটির বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং বিভিন্ন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কারও অর্জন করেছে। তিনি নিজের তত্ত্বাবধানেই ঘোড়াটির যত্ন নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ঘোড়াটির সর্বোচ্চ দর উঠেছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। তিনি বলেন, ১০ লাখ টাকা হলে ঘোড়াটি বিক্রি করতে রাজি আছেন।
মেলায় আসা কয়েকজন ঘোড়া ব্যবসায়ী ও ক্রেতা জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষেরাও এই মেলায় ঘোড়া কেনাবেচা করতেন। সেই পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তাঁরা এখনও এ মেলায় অংশ নেন। তবে আগে ঘোড়দৌড় আয়োজনের জন্য বিস্তীর্ণ মাঠ থাকলেও এখন জায়গা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বেচাকেনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
ঘোড়া নিয়ে আসা ব্যবসায়ী ইমদাদুল হক বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়ার মেলার জৌলুশ কিছুটা কমে এসেছে। আগের মতো বড় মাঠ না থাকায় এখন ঘোড়দৌড় আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে কেনাবেচাতেও প্রভাব পড়ছে।
দিনাজপুর থেকে ঘোড়া কিনতে আসা আকরাম হোসেন বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার মেলায় ঘোড়ার আমদানি ভালো হয়েছে। তবে উন্নত জাতের ঘোড়া খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। ভারতীয় তাজি জাতের বড় ঘোড়াটি এবারের মেলার প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
গোপীনাথপুর মন্দিরের সেবায়েত রণেন্দ্র কৃষ্ণ প্রিয়া বলেন, প্রতিবছর দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে এই মেলা বসে। এবার মেলার ৫১৯তম আয়োজন চলছে ৩ মার্চ থেকে। নির্ধারিত সময় ১৩ দিন হলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী মেলার সময় বাড়ানো হয়। ইতিমধ্যে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসকও মেলা পরিদর্শন করেছেন। উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বলে তিনি জানান।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, গোপীনাথপুরের এই মেলাটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। মেলাকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সিএ/এমই


