যশোর আদালতের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি। বুধবার দুপুরে সমিতির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রোববার (৭ ডিসেম্বর)।
সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক অভিযোগ করেন, ‘যশোরের মতো প্রাচীন আদালতে পাঁচ মাস ধরে জেলা ও দায়রা জজের পদ শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ হিসেবে দায়িত্বে থাকা আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের মধ্যে বিচারিক মানসিকতার অভাব রয়েছে। বিচারকার্যে তাঁদের খামখেয়ালি মনোভাব প্রতীয়মান হচ্ছে। অন্তত ২০০ আইনজীবীর এ বিষয়ে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠক ডেকে দুজনের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা ও দায়রা জজের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় আপিল শুনানি ও রিট পিটিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারকাজ স্থগিত রয়েছে। পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন জেলা জজ না থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক প্রয়োজনীয় আইনি সেবা দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে বিচারপ্রার্থীদের ওপর।
আরও অভিযোগ করা হয়, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের আচরণ বিচারিকসুলভ নয়। এ অবস্থায় আইনজীবীরা তাঁর এজলাসে অংশ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আদালত বর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, ‘আমরা গতকাল বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই বিচারকের আদালতে আইনজীবীদের কেউ যাবে না। আজ থেকে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। সমিতির সিদ্ধান্ত চিঠির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’
এর আগে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক এম এম মোর্শেদ ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় বদলি হলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সিএ/এমই


