খুলনা: বারবার লোকসানের কারণে খুলনার তরমুজ চাষে ধস নেমেছে। খুলনার দাকোপ, কয়রা, বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছা উপজেলায় তরমুজের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কৃষকরা ঝুঁকি এড়াতে চাষ কমিয়েছেন বা একেবারেই বাদ দিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, গত মৌসুমে খুলনায় ১৭ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছিল; এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৩০ হেক্টরে, যা ২৫ শতাংশের বেশি হ্রাস। দাকোপ উপজেলায় মোট উৎপাদনের ৫০–৫৫ শতাংশ তরমুজ হয়।
কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদনের ঝুঁকি, বাজার অস্থিরতা, সেচসংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মিলিয়ে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি। দাকোপের চিত্তরঞ্জন মণ্ডল বলেন, ‘গত বছর ২৭ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম, লাভ হয়নি। এ বছর ১০ বিঘা কমিয়েছি।’ পাইকগাছার শান্ত মণ্ডল জানান, ‘লোকসান দেখে এবার একটুকরাও চাষ করিনি।’
দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর অনেক কৃষক উৎপাদন তুলতে পারলেও বিক্রি করতে পারেননি। তাই ঝুঁকি নিচ্ছেন না।’ খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলে দাম পড়ে যায়। এই অনিশ্চয়তায় কৃষকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।’
খুলনার তরমুজের জন্য এক সময় স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু এখন অনিশ্চয়তা ও লোকসানের কারণে কৃষকরা বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
সিএ/এমই


