ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক চায়ের দোকানির সততায় ফিরে পেলেন এক বৃদ্ধ তাঁর হারিয়ে যাওয়া দেড় লাখ টাকার বেশি অর্থ। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
টাকার মালিক মিরাজ শেখ (৬৬) ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শাহ মুল্লুকদী গ্রামের বাসিন্দা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি উপজেলা সদরে আসেন। ওই দিন বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পাশে অবস্থিত জুবায়ের মিয়ার চায়ের দোকানে চা পান করেন। পরে সেখান থেকে চলে যান। জুবায়ের মিয়া (৪২) ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডিদাসদী মহল্লার বাসিন্দা।
মিরাজ শেখ চলে যাওয়ার বেশ কিছু সময় পর দোকানের ভেতরে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন জুবায়ের মিয়া। ব্যাগ খুলে তিনি দেখতে পান, এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে টাকার মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন তিনি। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে না পেয়ে পরদিন নিজ খরচে ভাঙ্গা পৌর এলাকায় মাইকিং করান। মাইকিংয়ে জানানো হয়, প্রমাণসহ যোগাযোগ করলে প্রকৃত মালিকের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হবে।
মাইকিংয়ের খবর পেয়ে মিরাজ শেখ বুঝতে পারেন, ওই দিন তিনি চায়ের দোকানে বসেছিলেন এবং সেখানেই ব্যাগটি ফেলে এসেছেন। এদিকে টাকা পাওয়ার পর জুবায়ের মিয়া বিষয়টি ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমকে জানান এবং প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করে টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক সহযোগিতা চান।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই শেষে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা মিরাজ শেখের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চায়ের দোকানি জুবায়ের মিয়া বলেন, ‘আমি টাকার ব্যাগ পেয়ে হতবাক হয়ে পড়ি। কিন্তু পরের টাকা রাখার ক্ষমতা আমার নেই। টাকার প্রকৃত মালিককে খোঁজার জন্য আমি মাইকিং করি। এ ছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারের কাছে বিষয়টি জানাই। এর মধ্যে খবর পাই, এক বৃদ্ধ টাকা হারিয়েছেন। তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সহকারী কমিশনার স্যারের তত্ত্বাবধানে হারানো টাকা প্রকৃত মালিককে দিতে পেরে আমি খুশি।’
মিরাজ শেখ বলেন, ওই দিন (৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি তাঁর চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে ওই টাকা তুলেছিলেন। বাড়ি গিয়ে দেখেন, টাকার ব্যাগ নেই। টাকার চিন্তায় আমি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। ভাবতে পারেননি চায়ের দোকানে টাকার ব্যাগ ফেলে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘জুবায়ের মিয়া অত্যন্ত ভালো মানুষ। উনি সৎ না হলে এই টাকা আজ আমি ফেরত পেতাম না। টাকাগুলো না পেলে আমার চিকিৎসা করাই সম্ভব হতো না।’
সিএ/এমই


