বরিশাল, কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মশহর, বসন্তের আগমনে নতুন রঙে সেজে ওঠে। শহরের সিঅ্যান্ডবি সড়ক, কবি জীবনানন্দ দাশ সড়ক, ক্লাব রোড ও রাজাবাহাদুর সড়কের বাড়ির ফটক আর সড়ক বিভাজকগুলোতে বাগানবিলাসের থোকা থোকা ফুল ঝুলে পথচারীদের চোখ আটকে রাখে। দুপুরের রোদে ফুলগুলো ঝলমল করে, যেন শহরটা হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
বিএডিসি ভবনের সামনের দেয়াল ঘেঁষা জায়গা, সিঅ্যান্ডবি সড়ক—সেখানে রঙিন বাগানবিলাস যেন এক ছোট উৎসব বসিয়েছে। তরুণ-তরুণী ও কিশোরেরা ছবি তুলছেন, আবার কেউ নিঃশব্দে ফুলের দিকে তাকিয়ে বসন্ত উপভোগ করছেন। মাটিতে ছড়িয়ে থাকা পাপড়িগুলো যেন বসন্তের কারুকাজ।
কীর্তনখোলা নদীতীরের মুক্তিযোদ্ধা পার্কে বসন্তের রঙিন দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর। সারি সারি ঝাউগাছের ছায়া পেরিয়ে বোতলব্রাশগাছের লাল ফুলের ঝাড়, গাছের ছায়াঘেরা বেঞ্চে বসে তরুণরা উপভোগ করছেন বসন্তের রূপ। নদীর ধীর প্রবাহ, জেলেনৌকা ও লঞ্চের চলাচল—সবই বসন্তের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করছে।
মেহেদী হাসান বলেন, ‘নগরায়ণের ব্যস্ততায় ঋতুগুলোর মনোমুগ্ধকর রূপ আমরা এখন কম টের পাই। বসন্ত এলে প্রকৃতি ফুলে সেজে আলাদা আবহ তৈরি করে, যা মানুষের মনেও রঙ ছড়িয়ে দেয়। তাই স্বস্তি খুঁজতেই এখানে আসি।’
গোলাপি, লাল, বেগুনি, সাদা, হলুদ ও কমলা—বাগানবিলাসের নানা রঙ বরিশালকে আবারও কবিতার মতো সুন্দর করে তুলেছে। শহর বদলায়, মানুষ বদলায়, তবু বসন্ত সময়মতো ফিরে আসে, জীবনানন্দের শহরকে রঙিন করে।
সিএ/এমই


