ফেনী জেলা কারাগারে বন্দী উপজেলা যুবলীগের এক নেতা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। তাঁর নাম ইয়াছিন শরীফ মজুমদার। তিনি পরশুরাম উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। সোমবার ( ২ মার্চ) বেলা ১১টায় পরশুরাম পৌরসভার অনন্তপুর সলিয়া কোলাপাড়া ঈদগাহ মাঠে তাঁর বাবার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে রোববার ( ১ মার্চ) দুপুরে ইয়াছিন শরীফ মজুমদারের বাবা রফিকুল ইসলাম (৭৭) বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মারা যান। পরে ইয়াছিনের স্ত্রী নাজিয়া সুলতানা তাঁর স্বামীর প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে তাঁকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগার থেকে তাঁকে পরশুরাম পৌরসভার অনন্তপুরের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে জানাজাস্থলে নিয়ে যান। পুরো সময় তিনি পুলিশি পাহারায় ছিলেন।
জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে ইয়াছিন শরীফ মজুমদার বলেন, ‘আমি বাবার হতভাগ্য ছেলে। বাবার অসুস্থতায় পাশে থাকতে পারিনি। আমার বাবাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন।’ বাবার জানাজায় উপস্থিত হওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
জানাজায় উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ইব্রাহিম খলিল মনি, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজ ও সদস্যসচিব মাহবুবুল হক মজুমদার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবদুল হালিম এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ইয়াছিন শরীফ মজুমদারকে জেলা কারাগারে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা চালিয়ে হত্যার একটি মামলায় ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ইয়াছিন শরীফ মজুমদার (৪২) গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে বন্দী আছেন। তিনি পরশুরাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিনের জামাতা। অতীতে তিনি পরশুরাম উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিএ/এমই


