রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পাড়ে ঘুরতে যাওয়া এক তরুণ ও তরুণীকে জিম্মি করে টাকা দাবি এবং মুঠোফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে তাঁদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। শনিবার ( ১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে নগরের হারুপুর এলাকায় হাইটেক পার্কের পেছনে পদ্মার আইবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই তরুণ–তরুণী ফুটবল মাঠসংলগ্ন ওয়াকওয়েতে বসেছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁদের জোর করে সেখান থেকে তুলে পাশের শ্মশানঘাটের দিকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তুলে মেয়েটির কাছে ৫০ হাজার টাকা এবং ছেলেটির কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ছেলেটির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ছেলেটি দৌড়ে আইবাঁধের দিকে পালাতে সক্ষম হলেও মেয়েটি জিম্মি অবস্থায় ছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তরুণ দন্তচিকিৎসক তবারক রহমান ও বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মচারী মামুন বিল্লাহ। মামুন বিল্লাহ জানান, তিনি তাঁর পাঁচ বছরের শিশুকে নিয়ে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। হট্টগোল শুনে এগিয়ে গেলে পুরো ঘটনা জানতে পারেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করেন। এরপর তিনি ও আরও কয়েকজন মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্তরা মেয়েটিকে জোর করে নগরের বুলনপুর এলাকার দিকে নিয়ে যেতে থাকেন।
এ সময় কাশিয়াডাঙ্গা থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবারক রহমান ও মামুন বিল্লাহ মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে বুলনপুর এলাকায় নদীর ধারে মেয়েটিকে পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। দন্তচিকিৎসক তবারক রহমান তরুণ–তরুণীকে থানায় নেওয়ার পক্ষে জোর দিলে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ মেয়েটিকে গাড়িতে তোলে। পরে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত তাঁদের থানায় নিয়ে যান।
দন্তচিকিৎসক তবারক রহমান বলেন, পাঁচজন যুবক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের সবার গায়ে একই ধরনের জার্সি ছিল। একজনের জার্সির পেছনে ‘তুহিন’ লেখা ছিল। তাঁর দাবি, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যারা একসঙ্গে ছেলে–মেয়ে দেখলেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ব্ল্যাকমেল করে টাকা ও ফোন হাতিয়ে নেয়।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরহাদ আলী বলেন, ঘটনাস্থল অন্য থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় উদ্ধার করার পর তাঁদের রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানান, ভুক্তভোগী তরুণ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন এখনো উদ্ধার করা যায়নি, তবে তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
সিএ/এমই


