রংপুরে কারাগারে থাকা এক যুবলীগ নেতার ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের দুই নেতাসহ তাঁদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কেবল অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং ম্যানেজারকে বাড়িতে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনার পর রোববার ( ২ মার্চ) রাতে অভিযুক্ত দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান (মনু) ও সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ (গালিব)। যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার সই করা চিঠিতে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রংপুর নগরে মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ফিড অপারেটর হিসেবে ক্যাবল ওয়ান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কামাল কাছনা থেকে দখিগঞ্জ শ্মশান এলাকা পর্যন্ত কেবল ও ওয়াই-ফাই ব্যবসা পরিচালনা করতেন মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের ব্যবসা হস্তান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বৈধ ফিডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার হারুন অর রশিদের স্ত্রী রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
কোতোয়ালি থানায় করা অভিযোগে বলা হয়েছে, রোববার বিকেল চারটার দিকে রংপুর নগরের স্টেশন রোডে ক্যাবল ওয়ানের কার্যালয়ে তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমান তাঁদের ১৫-২০ জন অনুসারী নিয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে ব্যবস্থাপক রায়হান আহম্মেদকে মারধর এবং কার্যালয়ের ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি তামজিদুর রশিদকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেওয়া হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কার্যালয়ে অবস্থানকালে যুবদল নেতা আকিবুল রহমান মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ম্যানেজার মাহাদি হাসানকে ফোন করে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘লাইনের কী সমাধান করবেন। তুই (মাহাদি) আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। তোর বাসায় গিয়ে গুলি করে আসব। আজকে বিকেলের মধ্যে যদি সমাধান না করিস, তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।’
অভিযোগের বিষয়ে তামজিদুর রশিদ দাবি করেন, ‘২০১৫ সাল পর্যন্ত এ লাইনটি তাঁর ছিল। ওই সময় অবরোধের সময় আমি কারাগারে থাকাকালীন শুনি, হারুন আমার লাইন দখল করেছে। এটা আমার হক। আমি কোনোখানে অন্যায় করতেছি না বা কাউকে মারতে যাইনি। মৌখিকভাবে কথা বলতেছি আলোচনার ভেতরে।’ হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করে আকিবুলদের নাম নেওয়াতে কালকে ওরা হয়তোবা অফিসে গেছে। এতে উচ্চবাচ্য হয়েছে।’
রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ও ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে দুটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সিএ/এমই


