সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত সালেহ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে বসবাস করতেন। গত বছর দেশে এসে চার মাস আগে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। তাঁর আর জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরা হলো না।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে দুবাইয়ের আজমান শহরে ইরানের বোমা হামলার ঘটনায় তিনি মারা যান। হামলার সময় তিনি পানির ট্যাংকার নিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সালেহ আহমদের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে। দেশে তিনি সালেহ আহমদ নামে পরিচিত হলেও প্রবাসে তাঁর নাম ছিল আহমদ আলী। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার ইফতারের পর কোনো এক সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর গাড়িতে আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। আজমান শহরেই তাঁর ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদ থাকেন। তাঁরাই পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুসংবাদ জানান।
সালেহর ছোট ভাই জাকির হোসেনের স্ত্রী শেলি বেগম বলেন, গত বছর তিনি দেশে এসেছিলেন এবং প্রায় চার মাস আগে আবার দুবাই ফিরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সর্বশেষ তিনি স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরদিন শনিবার রাতেই পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়।
শেলি বেগম জানান, রাত ১০টার দিকে প্রথমে তাঁরা বোমা হামলার খবর পান। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে সময় লাগে। আজমান শহরে থাকা দুই ভাই স্থানীয় হাসপাতালে গেলেও তাঁরা ভাইকে দেখতে পাননি। পরে কফিলের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তাঁর মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার আগে সালেহ আহমদ ভাইদের কাছে একটি ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন, রাত ১০টার দিকে কথা বলবেন। কিন্তু তার আগেই বোমা হামলায় তিনি মারা যান।
সালেহ আহমদের স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে দেশে বসবাস করছেন। তাঁর মৃত্যুসংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, পুলিশ সালেহ আহমদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
সিএ/এমই


