চট্টগ্রামের আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়ার ফুলতলী গ্রামে আজ শনিবার সকালে খেতজুড়ে সারি সারি তরমুজ দেখা যায়। বড় থেকে মাঝারি আকারের তরমুজের খেতে তোলা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে বিক্রির জন্য জমির এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। গ্রামটিতে বছরের পর বছর ধরে তরমুজ চাষ হয়ে আসছে। ভালো স্বাদের কারণে এই এলাকার তরমুজ বিক্রি হয় উচ্চ মূল্যে।
কৃষকেরা জানান, বালু ও এঁটেল মাটির মিশ্রণের কারণে এই অঞ্চলের জমিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়। তবে সাম্প্রতিক কয়েক বছর ধরে সাগরের লোনাপানি ঢুকে পড়ায় মাটির উর্বরতা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে তরমুজের আকার ছোট হচ্ছে।
ফুলতলী গ্রামে প্রায় ২০ জন কৃষক তরমুজ চাষ করেন। সব মিলিয়ে চাষের জমির পরিমাণ প্রায় ৪০ একর, যা স্থানীয় হিসাবে প্রায় ১০০ কানি। এসব জমিতে তরমুজ চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা। মৌসুম শেষে বিক্রি করে তারা এক কোটি টাকার বেশি আয় করেন।
চাষি মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, ‘লাভ-ক্ষতি বড় করে দেখি না। বংশপরম্পরায় আমরা তরমুজ চাষ করে আসছি। আমি চার কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি, চার লাখ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারব।’ আরেক চাষি মো. মিয়া বলেন, ‘দেড় কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। প্রথম দফায় বিক্রি করেছি ৯০ হাজার টাকার। খেতে এখনো কিছু তরমুজ রয়েছে। সব বিক্রি করলে আরও প্রায় ২০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।’
এলাকায় চাষিরা মূলত ৬০ দিনে ফলন হয় এমন ‘বিগ প্লাস’, ‘এশিয়ান প্লাস’ ও ‘গ্লোরিয়া জাম্বু’ জাতের তরমুজ চাষ করেন। এছাড়া ৯০ দিনে ফলন হয় এমন জাতের তরমুজও চাষ হচ্ছে। তবে তরমুজ চাষে নানা রোগের ঝুঁকিও রয়েছে। কখনো লতার ডগা থেকে পুরো গাছ শুকিয়ে যায়, আবার ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দেয়। চাষিরা এসবকে ‘স্ট্রোক’ বলে অভিহিত করেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ১,৩০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেন প্রায় ১৫০ জন কৃষক। চলতি বছর ফুলতলী থেকেই প্রায় এক কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সরোয়ার আলম বলেন, ‘আনোয়ারায় প্রতিবছরই তরমুজ চাষ হয়। আমরা নিয়মিত চাষিদের তদারকি করি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম আহমদ সরকার বলেন, ‘উপকূলীয় তরমুজ স্বাদে ভালো হওয়ায় চাহিদা বেশি। ভবিষ্যতে এখানে চাষ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
সিএ/এমই


