মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নতুনপাড়া এলাকায় কিশোর জিহাদ আহমদ (১৬) মানসিক রোগে আক্রান্ত। লেখাপড়া, খেলাধুলা ও সমবয়সীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিবর্তে তাকে দিন-রাত শিকলবন্দী অবস্থায় থাকতে হয়। তার মা নাজু বেগম বলেন, ‘কেউর যদি ক্ষতি করে এই ডরে ছেলেরে শিকল পরাই রাখি।’
নাজু বেগম স্বামী জামাল মিয়ার নির্যাতন থেকে সন্তানদের বাঁচাতে সাত-আট বছর আগে ঘর ছাড়েন। পরে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালান। উপার্জিত অর্থ দিয়ে দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতেও হিমশিম, তাই জিহাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারেন না। বর্তমানে ছেলেকে শিকলবন্দী করে রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
গত বুধবার দুপুরে দেখা যায়, ঘরের বারান্দার মেঝেতে জিহাদ কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। লোহার শিকলের এক প্রান্ত দিয়ে তার দুই পা বেঁধে রাখা, অপর প্রান্ত বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা। পাশে পানির জগ ও গ্লাস রাখা। নাজু ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, খেতে চায় কি না, জিহাদ মাথা নেড়ে ‘না’ বলে।
নাজু বেগম জানান, জিহাদের সমস্যা ছয়-সাত বছর বয়স থেকে শুরু। মাদ্রাসায় ভর্তি করলেও লেখাপড়ায় মন টেকেনি। ঘরের জিনিস ভাঙচুর, রেগে ওঠা, মেজাজ হারানো—সবই ছিল নিয়মিত। পরে মানসিক রোগের চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন, এটি মানসিক সমস্যা। মাসে তিন-চার হাজার টাকার ওষুধ লাগলেও অর্থসংকটের কারণে নিয়মিত দেওয়া সম্ভব হয়নি। চিকিৎসা বন্ধের পর রোগ বেড়ে গেছে।
নাজু বেগম বলেন, ‘দিনে বারান্দায় রাখি। কাজ শেষ করি, গোসল করাই, খাওয়াদাওয়া করাই। রাইতে ঘরে থাকে। মানুষের বাসায় কাজ করি, কোনোমতে সংসার চালাই। ডাক্তার প্রতিদিন ইনজেকশন দিতে বলছেন, সিটিস্ক্যান করাতে বলছেন। সাত-আট হাজার টাকা কই পাইমু। কিছু মানুষের সাহায্যে ইনজেকশন টাকার ব্যবস্থা করছি। ইনজেকশন দিলে খালি ঘুমায়।’
সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ এনাম জানান, জিহাদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ‘নিউরো-সাইকিয়াট্রিক’ সমস্যা ধরা পড়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত চিকিৎসায় সে সেরে উঠবে। চিকিৎসকের মতে, এখন শিকলবন্দী করে রাখার প্রয়োজন নেই।
সিএ/এমই


