খাগড়াছড়ির বটতলী ও খবংপুড়িয়া এলাকায় নদীর পাড়ে সূর্যমুখীর দুই বাগান দর্শনার্থীদের জন্য খোলা হয়েছে। আগে দর্শনার্থীরা এসে ফুল ছিঁড়ে নেওয়া ও গাছ ভাঙা করায় ক্ষতি হতো। এরপর দুই কৃষক—আপ্রেই মারমা ও নিরুত্তম চাকমা—প্রবেশে টিকিট নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এখন দর্শনার্থীরা নিয়মিত টিকিট কেটে বাগানে প্রবেশ করছেন, ছবি তুলছেন, গান–নাচের আনন্দ উপভোগ করছেন।
আপ্রেই মারমা তাঁর ২০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। দর্শনার্থীদের জন্য বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং প্রবেশ ফি ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিরুত্তম চাকমা ৪০ শতক জমিতে চাষ করেছেন এবং তিনি জনপ্রতি ৫০ টাকা নেন। গত বছর তিনি টিকিট বিক্রি করে ১০ হাজার টাকা আয় করেছিলেন।
দর্শনার্থীরা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করে খুশি। মাটিরাঙ্গা থেকে আসা রোকসানা আক্তার বলেন, “অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল সূর্যমুখীর বাগান দেখার। ২০ টাকা দিয়ে ঢুকেছি, এত বড় বাগান দেখে খুব ভালো লাগছে।” খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী অনুপ্রভা চাকমা বলেন, “টাকা দিয়েও ছবি তোলে, আড্ডা দিই, মন ভরে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত বছর ৪০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল, এ বছর ৩৭ হেক্টর জমিতে। পাহাড় ও নদীর পাড়ে বড় পরিসরে অন্য কেউ চাষ করেননি, তাই এই দুই বাগানে দর্শনার্থীর ভিড় বেশি। জেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা জানান, খাগড়াছড়ির মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। এই ফুলের তেল চাষে তেলের চাহিদা পূরণ এবং সয়াবিন তেলের আমদানি কমানো সম্ভব।
সিএ/এমই


