পটুয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দী অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
মৃত ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম খান (৩৮)। তিনি পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হাবিবুর রহমান খানের ছেলে। ২০১৮ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শফিকুল ইসলাম। তাঁকে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বিকেল ৫টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পটুয়াখালী কারাগারের জেলার আব্দুর রব মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবস্থার অবনতি হলে শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই বন্দীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) শফিকুল ইসলামের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পরিবারের অভিযোগ, শফিকুল ইসলাম যে তিনটি মামলায় কারাবন্দী ছিলেন, সেগুলোর কোনো ঘটনার সঙ্গেই তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তাঁর ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, একটি মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে দুমকী থানা-পুলিশ শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের মামলায় তাঁকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও আরও একটি রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরিবার দাবি করছে, কোনো মামলাতেই তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
সিএ/এমই


