বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলের কাছে জলদস্যুদের গুলিতে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত আটটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জেলের নাম শাহাদাত হোছাইন (২৫), তিনি কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মনসুর আলী হাজি পাড়ার মৃত মো. বাদশার ছেলে।
কুতুবদিয়া ট্রলার মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা তিনটার দিকে উপকূলের কাছে একটি ট্রলার জলদস্যুদের কবলে পড়ে। ট্রলারে ১৯ জন জেলে ছিলেন। জলদস্যুরা একজন জেলেকে গুলি করে ট্রলারের বিভিন্ন সরঞ্জাম, মাছ ও জাল লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল করে ট্রলারটি সাগরে ভাসিয়ে দেয়। সন্ধ্যায় অন্য একটি ট্রলার ওই এলাকা দিয়ে গেলে জেলেদের দেখতে পায় এবং পরে তাদের উদ্ধার করে উপকূলে আনা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর ফারুক। তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ শাহাদাত হোছাইনসহ জলদস্যুদের কবলে পড়া ১৯ জনকে উপকূলে আনা হয়েছে। পরে শাহাদাতকে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জলদস্যুদের কবলে পড়া ট্রলারটির মালিক উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আকবরবলী ঘাটের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, গত রোববার সকালে তার মালিকানাধীন এফবি আজুফা নামের ট্রলারে ১৯ জেলে মাছ ধরতে সমুদ্রে যান। এরপর গতকাল জলদস্যুদের কবলে পড়েন তারা।
কুতুবদিয়া উপজেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘গত দুই মাসে কুতুবদিয়ার ৫৫টি মাছ ধরার ট্রলার জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। দস্যুরা জেলেদের আহরিত মাছ ও জাল লুট করছে। গুলি ও পিটুনিতে অন্তত ৯ জেলে আহত হয়েছেন। এই বিষয়ে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে। জলদস্যুদের ভয়ে উপজেলার কয়েকশ ট্রলারের জেলেরা সাগরে নামার সাহস পাচ্ছেন না।’
সিএ/এমই


