রাজশাহীর মধ্যবুধপাড়া এলাকায় সড়কের দুই ধারে টুকটুকে লাল পলাশ ফুল ফুটে শহরবাসী ও পথচারীদের মুগ্ধ করছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছের শাখায় যেন আগুন জ্বলছে। বসন্তের হাওয়া লাগতেই নগরের এই সড়কজুড়ে আগুনরাঙা পলাশের রূপ ফুটেছে।
রাজশাহী নগরের আলিফ-লাম-মীম ভাটা থেকে চৌদ্দপাই বিহাস পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি বছরজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে সাজে আলাদা রূপে। গ্রীষ্মে সোনালু, বর্ষায় জারুল, শীতে কাঞ্চন এবং বসন্তে পলাশ ফুটে এই সড়ককে রঙিন করে তোলে। সড়কের আইল্যান্ডজুড়ে লাগানো পাম, রঙ্গন ও কাঠগোলাপের সারি বছরের পর বছর পথিকের মন ভরিয়ে রাখে।
সাধারণত হলুদ, লাল ও লালচে কমলা রঙের পলাশ দেখা যায়। তবে বসন্তে লালচে কমলার আগুনরাঙা রূপই বেশি নজর কাড়ে। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে গাছ প্রায় পাতাশূন্য হয়ে ফুলে ভরে ওঠে। দায়রাপাক মোড় থেকে মধ্যবুধপাড়া পর্যন্ত দুই পাশে সারি সারি পলাশগাছ রয়েছে। বসন্ত এলেই সবুজ পাতার মধ্যে ফুটে ওঠা লাল ফুল পথচারীদের আকৃষ্ট করে। কেউ মুঠোফোনে ছবি তোলেন, কেউ ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে নেন। রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলাশের রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে, সবুজের ভেতর যেন জ্বলছে আগুনের লাল শিখা।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে পরিকল্পিতভাবে এই সড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। প্রতি কিলোমিটারে ভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। আইল্যান্ডজুড়ে শোভাবর্ধক বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে সব গাছই টিকে আছে এবং সমানভাবে বেড়ে গেছে। ফলে বছরজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সড়কটি ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
নগরের দায়রাপাক এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কবির হোসেন পলাশের ছবি তুলছিলেন। তিনি বলেন, শহরের অন্যান্য সড়কের তুলনায় এই সড়কের আলাদা বিশেষত্ব আছে। সব সময় এখানে কোনো না কোনো ফুল ফুটে থাকে। এখন বসন্তে পলাশ ফুটেছে এবং গাছের নিচে লাল ফুল বিছিয়ে থাকায় মন ভালো হয়ে যায়।
সড়কের পাশেই বসবাস করেন মনির হোসেন। তিনি জানান, ছয়-সাত বছর আগে সড়কটি পাকা করার সময় পলাশগাছ লাগানো হয়েছিল। দুই বছর ধরে গাছগুলো ফুল দিচ্ছে। গরমে গাছের নিচে বসে থাকা যায়। মধ্যবুধপাড়ায় ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা তরুণ-তরুণীরা পলাশের ছবি তুলছিলেন, কেউ ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছিলেন, কেউ কাছে থেকে ফুল দেখছিলেন। তাবাসসুম আক্তার বলেন, পলাশগাছগুলো এমনভাবে ফুটেছে যে দাঁড়ালেই বোঝা যায়, বসন্ত এসেছে।
সিএ/এমই


