চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে আগুনে দগ্ধ বা পোড়া রোগীদের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র হলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। তবে ৬০ শয্যার এই ইউনিটে নিজস্ব নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকায় গুরুতর অবস্থার রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হয়।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান ইউনিটে আধুনিক যন্ত্রপাতি সীমিত এবং আইসিইউ শয্যা কম। বড় দুর্ঘটনার সময় রোগী ও স্বজনদের চাপ বেড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ড বা শিল্পকারখানার বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ রোগীদের প্রায় সব সময় ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠাতে হয়। সড়কপথে স্থানান্তরের সময় অনেক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, এবং কিছু রোগী পথেই মারা যান।
গত সোমবার হালিশহরের বিস্ফোরণে ৯ জন দগ্ধ হন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও সবাইকে ঢাকায় পাঠানো হয়, যার মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের দুই মাসে ঢাকায় পাঠানো ১৩ জনের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন। ২০২৫ সালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি ছিলেন ১,৪৪২ জন রোগী, যার মধ্যে ৫৮ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয় এবং ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রামে নতুন ১৫০ শয্যার বার্ন ইউনিট নির্মাণ চলছে, যেখানে ১০টি আইসিইউ শয্যা, ২৫টি এইচডিইউ, তিনটি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগসহ পুরো ইউনিট চালু হবে। বর্তমানে কাজের মাত্র ২৬ শতাংশ সম্পন্ন। ২৮৫ কোটি টাকার প্রকল্পে চীন ১৭৯ কোটি টাকা দিচ্ছে, বাকি ১০৫ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।
বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানান, নতুন ভবন চালু হলে ঢাকায় রোগী পাঠানোর প্রয়োজন কমে যাবে। প্রকল্প পরিচালক রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তবে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। নতুন ইউনিট চালু না হওয়া পর্যন্ত গুরুতর রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হবে।
সিএ/এমই


