ফরিদপুরে সক্রিয় একটি আন্তজেলা ইজিবাইকচোর চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৮টি ইজিবাইক এবং বিপুল পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকের মধ্যে ১২টি সচল এবং ৬টি অচল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা আড়াইটার দিকে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি ইজিবাইক চুরির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়।
মামলার বাদী জাহিদুল ইসলাম (৪০) গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে শহরের কোর্টপাড়া জামে মসজিদের সামনে তাঁর ইজিবাইক তালাবদ্ধ করে আদালতে যান। প্রায় ৪৫ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, ইজিবাইকটি চুরি হয়ে গেছে। পরে তিনি থানায় মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুর হোসেন জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথমে গোপালগঞ্জের আলাল ফকির (২৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের তিনটি পৃথক দল ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মাগুরা ও শরীয়তপুরে অভিযান চালায়। অভিযানে চক্রের সদস্য ও চোরাই ইজিবাইকের ক্রেতাসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, চক্রটি চুরি করা ইজিবাইক কেটে বিভিন্ন অংশ আলাদা করত। পরে সেগুলো অন্য যন্ত্রাংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে নতুন রূপে বিক্রি করা হতো। যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়, সে জন্য ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পরিবর্তন করা হতো এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হতো। এ কাজে তারা নিজেদের নামে প্রতিষ্ঠিত ভুয়া গ্যারেজের সিলমোহর ব্যবহার করত।
অভিযানে ১৮টি ইজিবাইক ছাড়াও চারটি চ্যাসিস, একটি বডির কাটা অংশ, সাতটি গ্লাস ফ্রেম, তিনটি কেবিন, তিনটি মাঝের বেড়া, তিনটি পেছনের বেড়া, দুটি বাম্পার, দুটি সকেট জাম্পার, একটি কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিএ/এমই


