রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে স্থাপনের জন্য সরবরাহ করা লিফটটি গত ২ অক্টোবর থেকে হাসপাতালের ভিতরে পড়ে আছে। হাসপাতালের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, জাপান থেকে আমদানির কথা বলা হলেও লিফটের প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করা যায়নি। বিভিন্ন প্যাকেজের যন্ত্রাংশ একত্র করে এটি সরবরাহ করা হয়েছে। কমিটি এই অনিয়মকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আইসিইউ ইউনিটে নতুন ৫ তলা নির্মাণে লিফটের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ১৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন ২০২৪ সালে সাধারণ প্যাসেঞ্জার লিফট স্থাপন করে। শুরুর লিফট অপসারণের পর ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় লিফট সরবরাহ করা হয়, যা এখনো ব্যবহার হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জালিয়াতির কারণে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য বেড-ক্যাম লিফটের অভাবে রোগীর স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিকল্প লিফট বা সিঁড়ি ব্যবহার করে রোগীদের ওঠানামা করতে হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লিফটের মূল অংশ ‘ট্রাকশন মোটর’ ও ‘কন্ট্রোল বক্স’ প্যাকিং তালিকায় ছিল না। ই-মেইল ও ওয়েব পেজ যাচাই করা হলে ভুয়া প্রমাণ পাওয়া গেছে। কমিটি শিফার করেছে, ভুয়া কাগজপত্রের কারণে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, লিফট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস। কোনো অঘটন ঘটলে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ কঠিন। গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরবরাহকৃত লিফট দরপত্রের শর্ত ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এসেছে, তবে হাসপাতালের প্রতিনিধি ওই কমিটিতে ছিলেন না।
সিএ/এমই


