চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান শাখাওয়াত হোসেন (৪৯)। তিনি পেশায় মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ছিলেন। এ নিয়ে ওই বিস্ফোরণে দগ্ধ পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
এর আগে সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল নামে ছয়তলা একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন শাখাওয়াত হোসেন। বিস্ফোরণের সময় বাসায় থাকা মোট নয়জন দগ্ধ হন।
ঘটনার দিনই শাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহানের মৃত্যু হয়। পরদিন মঙ্গলবার মারা যান তাঁদের ছেলে সাফায়াত। একই দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাখাওয়াতের পর্তুগালপ্রবাসী ভাই সামির এবং সামিরের স্ত্রী আয়েশা আক্তার। বর্তমানে দগ্ধ আরও চারজন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে শাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ অন্য চারজন শঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।’
নিহত শাখাওয়াতের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী জানান, মরদেহ কুমিল্লায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেখানেই দাফন সম্পন্ন করা হবে।
বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে রান্নার চুলা থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে। অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিগুলোকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
সিএ/এমই


