মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইটের গাঁথুনির নিচে কংক্রিটের বিমের পরিবর্তে কলাগাছ ব্যবহার করার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার ( ৫ ডিসেম্বর) ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
ঘটনাটি শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড় এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, চরকাকইর এলাকার একটি মসজিদের সামনে প্রায় ৩০ মিটার অংশে মাটির ওপর কলাগাছ রেখে তার ওপর ইটের গাঁথুনি দিয়ে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে কয়েকজন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন।
সমালোচনার মুখে সংশ্লিষ্ট অংশের ইটের গাঁথুনি ভেঙে কলাগাছ সরিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) শিবচর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক এবং ১৫৩ মিটার গাইডওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় মাদারীপুর শহরের মনির কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ছয় মাস আগে কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে তা বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দারের তত্ত্বাবধানে পুনরায় কাজ শুরু হয়। তবে এখনো অধিকাংশ কাজ শেষ হয়নি।
চরকাকইর এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক ব্যবহার করে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ সারা দেশে যাতায়াত করেন। গাইডওয়ালের নিচ কলাগাছ দেওয়া ছাড়াও সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে।’
ভিডিও প্রকাশকারী হায়দার আলী বলেন, ‘গাইডওয়াল নির্মাণে বিম না দিয়ে কীভাবে কলাগাছ দেয়? দেখার কি কেউ নেই? সরকারি টাকায় এ কাজ করার চেয়ে না করাই উত্তম।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনির কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আলমগীর জমাদ্দার বলেন, ‘যে রাজমিস্ত্রি কাজ করে তাকে বলেছি এমন কাজ কেন করা হলো? আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি। যখন নজরে এসেছে তখন কলাগাছ তুলে বিম দিয়ে ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে।’ ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান ভালো দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি কলাগাছ সরিয়ে ফেলে সঠিক নিয়মে কাজ করে দেব। আশা করছি, স্থানীয়ভাবে আর কারও কোনো অভিযোগ থাকবে না।’
এলজিইডির শিবচর উপজেলা কার্যালয়ের সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘সীমানাপ্রাচীরে ইটের গাঁথুনিতে কলাগাছ দেওয়ার হয়েছে কি না, তা আমি জানি না। আমি নির্বাচনের ডিউটিতে অনেক দিন ব্যস্ত ছিলাম। ঠিকাদার কোনো অনিয়ম করলে কোনোভাবেই তা মেনে নেওয়া হবে না। তবে পাঁচ মিটার অংশে ঝামেলা হয়েছিল, পরে তা ঠিক করা হয়েছে। তা ছাড়া আমরা ঠিকাদারকে এখনো কোনো বিল দিইনি।’
এ বিষয়ে এলজিইডির মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, ‘আমি শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। গাইডওয়াল নির্মাণে কলাগাছ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা অনিয়ম নয়, গুরুতর অপরাধ। সরকারি কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আমি ঘটনাটি দেখছি। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


