কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর এক যুবককে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের শাহ ওমর মাজার–সংলগ্ন সড়কে। এ ঘটনায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মোহাম্মদ মুজিব (৪৫) কাকারা ইউনিয়নের কসাইপাড়া এলাকার মৃত ফকির আহমদের ছেলে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন—মো. মোজাম্মেল (৪৫), তিনি মৃত মো. কালুর ছেলে; এবং মোহাম্মদ খোরশেদ (৪০), তিনি লোটনী এলাকার গোলাম কাদেরের ছেলে। আহত দুজন বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
আটক মোহাম্মদ আরিফ (২৮) একই এলাকার মোহাম্মদ জহিরের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মুজিবকে হত্যার পর ঘটনাটি ডাকাতি বলে এলাকায় প্রচার করার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে অসংগতি থাকায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ইফতারের কথা বলে মুজিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন আরিফ। পরে তাঁরা শাহ ওমর মাজার এলাকায় যান। রাত আটটার দিকে ফেরার পথে সেবাখোলা ডুমচিতা পুকুর–সংলগ্ন সড়কে মুজিবের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁর মরদেহ পাশের একটি তামাকখেতে ফেলে রাখা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়। এ সময় সড়ক দিয়ে যাওয়া আরও দুজন পথচারীকেও জিম্মি করা হয়। তাঁদের হাত-পা বেঁধে একই তামাকখেতে ফেলে রাখা হয়। পরে আরিফ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গিয়ে দাবি করেন, তাঁরা ডাকাতের কবলে পড়েছিলেন এবং তিনি কোনোভাবে পালিয়ে এসেছেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসক মুজিবকে মৃত ঘোষণা করেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ওসি মনির হোসেন বলেন, ‘আরিফ নিজেকে বাঁচাতে ডাকাতির ঘটনাটি প্রচার করেছেন। আরিফের সঙ্গে মুজিবের পূর্ববিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে আরিফের হাতের একটি আঙুলও কাটা পড়ে। আরিফ এই শত্রুতাকে স্বাভাবিক সম্পর্কে নামিয়ে আনার পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
সিএ/এমই


