ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন আনন্দ মোহন কলেজের এক শিক্ষার্থী। ঘটনার ২৬ ঘণ্টা পার হলেও বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) রাত আটটা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। তিনি ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরজাকালিয়া গ্রামে। বুধবার সন্ধ্যায় ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) নদীর বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর দল তাঁদের ঘিরে ধরে এবং সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া টাকা নেই জানালে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে শাওন প্রতিবাদ করলে তাঁকে বেদম মারধর করা হয়। পরে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন শাওনের পিছু নেয় এবং তিনজন ধাওয়া করে মঞ্জুরুলকে। মঞ্জুরুল নদে নেমে সাঁতরে পার হতে সক্ষম হন। তবে শাওন কোন দিকে গেছেন, তার আর খোঁজ মেলেনি।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সন্দেহভাজন ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। রাতভর ও বৃহস্পতিবার সকালেও নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে অভিযান চালানো হয়। সকালে নদীর তীর থেকে শাওনের ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালালেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা মঞ্জুরুল আহসান বলেন, ‘জয়নুল উদ্যান এলাকায় থাকা লাইব্রেরিতে পড়া শেষে বিকেলে দুজন ঘুরতে গিয়ে একটু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ছিনতাইকারী কিশোর দল আমাদের ঘিরে ধরে। আমাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন দিতে চাইলেও তারা মারধর করে। দুই বন্ধু আত্মরক্ষার্থে দুদিকে ছুটে যাই। আমি বাঁচতে পারলেও বন্ধুকে খুঁজে পাচ্ছি না। জানি না ওর কী হয়েছে।’
নুরুল্লাহ শাওনকে অক্ষত উদ্ধারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে আনন্দ মোহন কলেজ চত্বরে মানববন্ধন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীকে দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
এ ঘটনায় শাওনের মা শাহিদা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং শনিবার (৬ ডিসেম্বর) আদালতে সোপর্দ করা হবে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী নদীর ওপারে ঘুরতে গিয়েছিলেন। একজনকে এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক একজন কিশোরকে আটক করে আমাদের হেফাজতে দেয়। তাকে আমরা গ্রেপ্তার দেখিয়েছি। আগামীকাল (শনিবার) আদালতে সোপর্দ করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সবাই কিশোর; অষ্টম-নবম শ্রেণির ছাত্র। নিখোঁজ ছাত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার অভিযান চলবে।’
সিএ/এমই


