নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন বিএনপিপন্থী শিক্ষক নেতারা। আজ বুধবার দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান উপাচার্য মুহাম্মদ ইসমাইলের ১৬ মাসের মেয়াদকালে ৩৪ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩১ জন জামায়াতপন্থী এবং বাকিরা বিএনপি ও অন্যান্য মতাদর্শের। এ ছাড়া ২১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯ জন জামায়াতপন্থী। শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক ছাত্রশিবির নেতা বলে জানা যায়। নয়জন শিক্ষকের একাডেমিক যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়; তাদের মধ্যে দুজনের কোনো প্রকাশনা নেই।
শিক্ষক নেতারা আরও অভিযোগ করেছেন, পদবী ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে একমাত্র প্রার্থী নিয়োগ বোর্ডে বসানো হয়েছে এবং তড়িৎ প্রকৌশল (ইইই) বিভাগে পরীক্ষায় প্রথম হওয়া এক নারী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক নেতারা দাবি করেছেন, ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষকেরা ২৬ হাজার টাকা সম্মানী পেয়েছেন, কিন্তু উপাচার্য, সহ–উপাচার্য ও ট্রেজারার প্রত্যেকে দুই লাখ টাকা করে নিয়েছেন। সফটওয়্যার উন্নয়নের নামে ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়। গত দুই মাসে উপাচার্য ও সংশ্লিষ্টদের কক্ষ সংস্কারে ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং ১৮ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক সামগ্রী স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্য নিজে বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক হলেও একাউন্টিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, বাংলা, আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনে যুক্ত হচ্ছেন। নিয়োগ বোর্ডও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে গঠিত হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য মুহাম্মদ ইসমাইল প্রথম আলোকে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দলীয় পরিচয়ে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রতিটি নিয়োগ বোর্ড ইউজিসির নীতিমালা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে গঠিত হয়েছে। সফটওয়্যার বিল ও কক্ষ সংস্কারের কাজও সরকারি বিধি মেনে সম্পন্ন হয়েছে।
সিএ/এমই


