ময়মনসিংহ–৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ হাটবাজারে নির্ধারিত নিয়মের বাইরে খাজনা আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাত আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিএনপির এই সংসদ সদস্যের পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা পর্যন্ত পোস্টটি ১৪৭ জন শেয়ার করেছেন এবং অন্তত ৮৭৭ জন মন্তব্য করে তাঁর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ লেখেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জের সব বাজারে খাজনার চার্ট টানিয়ে তারপর খাজনা আদায় করতে হবে। প্রান্তিক কৃষকদের খাজনা শতকরা ৫ শতাংশ নিতে হবে। সব বাজারে ব্যবসায়ীরা মিলে খাজনার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হোন। সবাই শপথ করুন, চার্ট না টানানো পর্যন্ত কেউ খাজনা দেবেন না। আর যাঁরা বাজার নিয়েছেন, কেউ যদি নিয়মের বাহিরে আদায় করেন, তাঁর নামে প্রমাণ পাওয়া মাত্র চাঁদাবাজির মামলা হবে।’
সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বড়হিত উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান মন্তব্যে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আপনার মতো জনবান্ধব নেতা পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জবাসী সত্যিই গর্বিত। আপনার এমন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়াতে হয়তো অনেকে আপনার বিপক্ষে চলে যাবেন। আপনার বড় শক্তি জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসা। এগিয়ে যান, আল্লাহ ভরসা।’
এহসানুল হক আবিদ নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মিনিমাম একটা টাকার নিচে খাজনাগুলো মওকুফ করা যায় কি না বাজার কমিটির কাছে বিবেচনার অনুরোধ রইল। এখনও অনেক দরিদ্র–বৃদ্ধ–অসহায় ব্যক্তি আসে বাজারে যারা দুই হালি কলা, একটা নারিকেল বা গাছের দুইটা ফল বিক্রি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করেন। শুধু ৫০ বা ১০০ টাকা বিক্রি করেই যদি ১০ টাকা খাজনা দিয়ে দিতে হয় বিষয়টা অমানবিক বটে!’
আনোয়ারুল হক নামের আরেকজন লেখেন, ‘আপনার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রান্তিক কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা সবাই একসাথে থেকে এই নিয়ম মেনে চলব।’
সিএ/এমই


