কুড়িগ্রাম জেলা শহরে গুঁড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের স্থানে ব্যানার টাঙানো ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শাপলা চত্বর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির জেলা কার্যালয়ের জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংস করা ভবনের সামনে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সেখানে পাঁচ থেকে সাতজন তরুণকে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কুড়িগ্রামের মাটিতে আওয়ামী লীগের পতাকা উড়বেই।’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পতাকা ও ব্যানার লাগানোর পর উপস্থিত তরুণেরা ‘জয় বাংলা’; ‘শেখ শেখ শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’; ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আবদুল আজিজ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলেন। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেকজনকে জাতীয় পতাকা নামাতে দেখা যায়। এ সময় আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমরা পতিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ সেখানে পাঁচ থেকে সাতজন ছাত্রলীগ এসে ব্যানার টাঙিয়েছে। যাঁরা এই সুযোগ দিলেন, তাঁরা এর ফলাফল খুব দ্রুতই টের পাবেন।’
দুপুর ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সেখানে আবারও জড়ো হন। পরে গুঁড়িয়ে দেওয়া কার্যালয়ের ঘিরে রাখা স্থানের টিনের বেড়া ভেঙে দেন তারা।
এর আগে গত বছর ৬ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও একদল বিক্ষুব্ধ লোক এক্সকাভেটর দিয়ে আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আওয়ামী লীগের গুঁড়িয়ে দেওয়া কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
সিএ/এমই


