কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের উত্তর মণিপুর গ্রামে এ ঘটনা জানাজানি হয়।
নিহতরা হলেন সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার (৩৫), তাঁদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং জহিরুল ইসলামের ছোট ভাই আবদুস সাত্তারের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে জোবায়ের হোসেন। দুই শিশুর মধ্যে একজন পাপিয়ার সন্তান এবং অন্যজন তাঁর দেবরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একতলা বাড়িটির তিনটি পৃথক কক্ষে তিনজনের মরদেহ পড়ে ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার (৪ ডিসেম্বর) গভীর রাতে কোনো এক সময় তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। সকালে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে দরজা ও গেট খোলা দেখতে পান। পরে তিনটি কক্ষে মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পাপিয়া আক্তারের কক্ষের আলমারি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। সেখান থেকে মালামাল লুট করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আলামত সংগ্রহের জন্য পিবিআই ও সিআইডিকে খবর দেওয়া হয়েছে।
স্বজনেরা জানান, জহিরুল ইসলাম প্রবাসে থাকেন। তাঁদের সংসারে আরও দুই মেয়ে রয়েছে। একজনের বিয়ে হয়েছে এবং অন্যজন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। মেয়েরা বাড়িতে না থাকায় দেবরের ছেলে জোবায়েরকে নিজের ঘরেই রাখতেন পাপিয়া। জোবায়েরের বাবাও প্রবাসে রয়েছেন।
প্রতিবেশী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘সকালে হঠাৎ খবর পাই তিনজনকে জবাই করে খুন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি দরজা ও গেট খোলা। এরপর দেখলাম ঘরের তিনটি কক্ষে দুই শিশুসহ তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। পরিবারটি খুব ভালো ছিল, কারও তেমন কোনো ঝামেলা ছিলো না। কে বা কারা এই নৃশংস হত্যা করেছে—আমরা ভাবতেই পারছি না।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পাপিয়ার বোন সেলিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘কে জানতো খুনিরা বাচ্চাগুলোরেও খুন করবো। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই। কারা এই খুনে জড়িত—দ্রুত যেন পুলিশ তাঁদের খুঁজে বের করে।’
হোমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাশগুপ্ত বলেন, হত্যার নেপথ্য কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সিএ/এমই


