সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার থেকে মেয়র এবং সর্বশেষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এবারই প্রথম তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন।
বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাঁকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মুঠোফোনে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে চলব। দল তৃণমূলের একজন কর্মীকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, এর প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। সবার দোয়া চাইছি।’
রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল থেকে উঠে আসা আরিফুল হক চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর টানা দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রথমে সিলেট-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে সেখানে মনোনয়ন পান খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করেন আরিফুল এবং জয়লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর নির্বাচনী যাত্রা শুরু। ২০১৩ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও পুনরায় মেয়র পদে জয়ী হন।
আরিফুল হক চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার খবরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘একজন তৃণমূলের কর্মী থেকে নেতা হয়ে ওঠা আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত খুশি। আশা রাখছি, সিলেটের উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন।’
সিএ/এমই


