নাটোরের তিনটি উপজেলায় পৃথকভাবে নির্বাচনী–পরবর্তী সহিংসতায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের অভিযোগ, বিএনপির কর্মী ও সমর্থকেরা এই হামলা চালিয়েছে। শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী এসব ঘটনা ঘটে।
সিংড়া থানার সূত্রে জানা গেছে, সিংড়া উপজেলার ছাতারদীঘি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন (৬০) শনিবার সকাল ১০টার দিকে কালিগঞ্জ বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় ছাতারদীঘি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামিম হোসেন তাঁর ওপর হামলা চালান ও মারধর করেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ব ম আবদুর নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত আলতাব হোসেন অভিযোগ করেছেন, ‘শামিম হোসেন আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সে আমার কাছে পুকুরের মাছ বিক্রি করে রাখা লক্ষাধিক টাকাও ছিনিয়ে নেয়। নির্বাচনে আমি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদের পক্ষে কাজ করেছিলাম, হয়তো সেই আক্রোশে আমাকে মারা হয়েছে। আমি মামলা করব।’
হামলাকারী শামিম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ২০১৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছিলাম। সে সময় আলতাব হোসেন আমাকে মারধর করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই আজ তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য দুটো চড় মেরেছি। এর বেশি কিছু নয়।’
এছাড়া লালপুর উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের কলসনগরে দুর্বৃত্তরা স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ শামসুল প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালায়। তাঁকে ও তাঁর দুই ছেলে মানিক আলী প্রামাণিক ও রতন আলী প্রামাণিককে দা, ছুরি ও হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। আহতরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলামের পক্ষে প্রচার চালানোর কারণে তাঁদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা বাড়ির দুটি ছাগল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে অভিযুক্ত শাহাদত হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর পাশাপাশি নলডাঙ্গা উপজেলার শ্যামনগর গ্রামে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে হামিদুল ইসলাম নামের এক মৎস্যচাষিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামিদুল বাঁশভাগ গ্রামের বাসিন্দা ও জামায়াতের কর্মী। নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


