ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবু দাউদ প্রধান বলেন, যে ভবনটিকে আওয়ামী লীগের চাকলাহাট ইউনিয়ন কার্যালয় হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, সেটি তিনি গুদামঘর হিসেবেই জানতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে হেয় করা এবং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান। শুক্রবার সকালে গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে আসার পথে চাকলাহাট বাজারে মানুষের জটলা দেখে সেখানে যান। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী একটি গুদামঘরের তালার চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলেন। পরে তিনি ওই ব্যক্তিকে চাবি দিতে বলেন। তালা খুলে দেওয়া হলে চাবিটি বাজার বণিক সমিতির সভাপতির কাছে জমা রাখা হয়।
আবু দাউদ প্রধানের বক্তব্য, ‘এ সময় আমি ঘরটি গুদামঘর বলেই জানতাম। সেখানে কোনো চেয়ার, টেবিল বা কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ছিল না। ঘটনার সময় আমি লোকজনকে সামলাতে গিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে কে কী বক্তব্য দিয়েছেন—তা আমি বুঝে উঠতে পারিনি। পরে শুনেছি সেখানকার ভিডিও আওয়ামী লীগ অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আবু দাউদ প্রধান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আনিসুজ্জামান স্বপনসহ আরও অনেকে। ভিডিওতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় খুলে দেওয়ায় আবু দাউদ প্রধানকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়। বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধানের দাবি ও ভিডিওতে দেখা দৃশ্য—এই দুইয়ের মধ্যে অসঙ্গতি নিয়েই মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সিএ/এমই


