ভোলার সদর উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাঘমারা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে হাতপাখা প্রতীকের সমর্থক মো. শফিকুল ইসলাম ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক আবু সাইদ এবং তাঁর ভাইয়ের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। আহতদের ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভোলা জেলা উত্তর ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে ভেলুমিয়া ইউনিয়নের মধ্য বাঘমারা গ্রামে আবু তাহেরের বাড়িতে হাতপাখার পক্ষের নারী ও পুরুষের একটি দল নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। কোদাল ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক আবু সাইদ, কামাল উদ্দিন ও আমির হোসেনের নেতৃত্বে ৮–১০ জনের একটি দল এই হামলা চালায়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাতপাখার প্রচারণায় হামলার কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমাদের জানা নেই। এর আগেও ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সবই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা আমাদের নেতা–কর্মীদের সংঘাত এড়িয়ে চলতে নির্দেশ দিয়েছি।’
ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. কামাল হোসেন দাবি করেন, আবু সাইদ ও শফিকুল ইসলাম দুই প্রতিবেশী এবং তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক ও জমি–সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। চায়ের দোকানে কথা–কাটাকাটি থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


