ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন। জনগণের সমর্থন পেলে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করবে। পাশাপাশি এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের দায়ও দুস্থ মানুষের পক্ষ থেকে পরিশোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এখন দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।’ তিনি জানান, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য।
দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। মা-বোনদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই আমি ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি।’
আজ সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে আকাশপথে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। বেলা ১১টায় সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জনসভায় যোগ দিয়ে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বক্তব্য শুরু করেন।
দীর্ঘ ২২ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বহু বছর পর এই ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে আসতে পেরেছি। এ জন্য আল্লাহর কাছে হাজার কোটি শুকরিয়া।’ অতীতে শীতকালে এ অঞ্চলে এসে দুস্থ মানুষের পাশে থাকার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
আগামী ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই অধিকার প্রয়োগ করবে মানুষ।’ তিনি জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘নারীদের যদি কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।’ তিনি নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে গৃহিণীদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান তিনি।
কৃষকদের জন্য আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করতে চাই। উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা। আমরা এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে চাই।’ পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চিনিকল, রেশম কারখানা, চা শিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার, আইটি পার্ক বা আইটি হাব, মেডিক্যাল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশ ২০ কোটি মানুষের দেশ। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই—যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাচল, কাজ ও চিকিৎসাসেবা পাবে।’ ধর্মীয় সম্প্রীতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে নয়, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই সবাই মূল্যায়িত হবে।
বক্তব্যের শেষে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর-১ আসনের ধানের শীষের ছয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
সিএ/এমই


