সিরাজগঞ্জে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রেখে উদার ও ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম মির্জা মুরাদুজ্জামানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মির্জা মোস্তফা জামান। জেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক বা সদস্য না হয়েও লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের আহবানে সারা দিয়ে তিনি শতাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন জেলার ছয়টি আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে ধারাবাহিক নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পক্ষে এক বিশাল নির্বাচনী গণসংযোগ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে মিছিলটি ধানবান্ধি এলাকা থেকে শুরু হয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নানা স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, মির্জা মোস্তফা জামান নিজেও সিরাজগঞ্জ-২(সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত প্রার্থিতা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে পেছনে রেখে দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামায় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।
গণসংযোগে অংশ নেওয়া সদর উপজেলার তৃণমূল ভোটার আবদুল মালেক বলেন, রাজনীতিতে এমন স্বচ্ছ ক্লিন ইমেজের মানুষ খুব কম দেখা যায়। নিজে প্রার্থী ছিলেন দল তাকে মনোনায়ন না দিলেও হতাশা না হয়ে যেভাবে দলীয় প্রার্থীর জন্য কাজ করছেন, এতে আমরা অনুপ্রাণিত হচ্ছি। এতে বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে।
একই এলাকার গৃহিণী শিরিন আক্তার বলেন, আজকের মিছিলে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মির্জা মোস্তফা জামান আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, ভোটের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। জনাব তারেক রহমানের বার্তা আমাদের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন। এমন সৎ, সরল, নিরলস, নির-অহংকার মানুষের নেতৃত্বই আমরা চাই।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডাঃ আব্দুল লতিফ বলেন, মির্জা মোস্তফা জামান যে রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন, তা দলীয় ঐক্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার এই ভূমিকা অন্যদের জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে।
গণসংযোগ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, এই নির্বাচন ব্যক্তি বা পরিবারের নয়, এটি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারিতে ভূলন্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তার পক্ষে কাজ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমার জন্ম বিএনপি পরিবারে, আমার বাবা মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামান সিরাজগঞ্জ বিএনপি’র জন্মদাতা। আমি বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধভাবে প্রবীণ-নবীন একসাথে মিলেমিশে কাজ করলে ধানের শীষই বিজয়ী হবে।
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ চাঁদাবাজমুক্ত, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, বিশৃঙ্খলামুক্ত নিরাপদ নগরী হিসেবে দেখতে চায়। সিরাজগঞ্জের মানুষ পরিবর্তন চায়, তারা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণে আমরা সবাই একসঙ্গে মাঠে আছি এবং সারাজীবন থাকবো ইনশাআল্লাহ।
ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


