রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া যুবক রেজাউল শিকদারের সন্ধান দুই দিনেও পাওয়া যায়নি। ডুবুরি দল দুই দিনের চেষ্টা শেষে বুধবার সন্ধ্যায় অভিযান কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেছে।
ঘটনা ঘটে গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে, যখন রো রো (বড়) ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ ফেরিতে যানবাহন লোডের জন্য অপেক্ষমাণ জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তি চলছিল। একপর্যায়ে রেজাউল শিকদার ফেরির পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দেন। তবে তাঁর পরিবার দাবি করেছেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে পরিকল্পিতভাবে নদীতে ফেলে দিয়েছে।
নিখোঁজ রেজাউল শিকদার (৩৫) গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বারপাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। তাঁর বড় ভাই হারুন শিকদার জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে জুয়াড়ি চক্রের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সংঘাত রয়েছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন জেলও খেটেছেন। পরিবারের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ডুবুরি দলের প্রধান, মানিকগঞ্জের আরিচা স্থলকাম নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার জয়নাল আবেদীন বলেন, নিখোঁজের সংবাদ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। কোনো হদিস না পাওয়ায় বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছয় সদস্যের ডুবুরি দল পুনরায় অভিযান চালায়। কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
ফেরিঘাট এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজুল শেখ বলেন, ফেরিতে জুয়া খেলার টাকা নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে রেজাউল শিকদার নদীতে লাফ দেন। সঙ্গে সঙ্গে টাকা হারানো যাত্রীও নদীতে লাফ দেন, কিন্তু তাঁকে ঘাটে উপস্থিত লোকজন টেনে তুলতে সক্ষম হন, রেজাউল পদ্মায় তলিয়ে যান।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহা জানিয়েছেন, নিখোঁজ রেজাউলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় চারটি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দে দুটি ছিনতাই মামলা এবং গোয়ালন্দে একটি জুয়া আইনের মামলা রয়েছে। ডুবুরি দল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু কোনো হদিস পাওয়া যায়নি এবং পরে তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে।
সিএ/এমই


