রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলকে একটি আধুনিক ‘ঢাকা রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’ (ডিআরসিপি) হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য আর আবর্জনা হিসেবে থাকবে না, বরং তা রূপান্তরিত হবে মূল্যবান সম্পদে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের সঙ্গে কোরিয়াভিত্তিক কারিগরি প্রতিষ্ঠান ‘বি অ্যান্ড এফ কোম্পানি’-র এক মতবিনিময় সভায় এই মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের পুরোনো ১০০ একর এলাকা থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথেন গ্যাস সংগ্রহ করা হবে। এখানে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন আহরণ করে ৮১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ল্যান্ডফিলে সৌরশক্তির প্যানেল বসিয়ে আরও ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
সভায় জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় প্রতিদিন ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংস্থাটি ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’ এবং ‘থ্রি-আর’ (হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনর্চক্রায়ন) নীতি গ্রহণ করেছে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় ল্যান্ডফিলে একটি ‘ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি’ (এমআরএফ) স্থাপন করা হবে। সেখানে প্রতিদিন ৩০০ টন গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট সার, বায়োফুয়েল এবং ইকো-ব্রিকস (পরিবেশবান্ধব ইট) উৎপাদন করা হবে।
ডিএসসিসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে। এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, সীমিত জনবল ও বাজেটের মধ্যে শতভাগ পরিচ্ছন্নতাসেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও এই রিসোর্স পার্ক বাস্তবায়িত হলে ঢাকাকে প্রকৃত অর্থেই ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সভায় কোরিয়ান কারিগরি দলের প্রতিনিধিরা এবং ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির উৎপাদিত সব বর্জ্য সম্পদে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিএ/এমই


