আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদযাত্রা সহজ করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাবেন। একই সময়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবেন। এই বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্য, পোশাকসামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া ১৬ মার্চ থেকে ঈদযাত্রাসংশ্লিষ্ট যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কুড়িল থেকে আবদুল্লাহপুর অংশ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড অংশ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা মিরপুর রোডের আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার অংশ এবং ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতিবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত এলাকা।
এ ছাড়া ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ অংশ, মোহাম্মদপুর বছিলা ক্রসিং থেকে বছিলা ব্রিজ, আবদুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়কও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আন্তজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী তুলে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই টার্মিনালের বাইরে প্রধান সড়কের ওপর বাস দাঁড় করানো যাবে না। অনুমোদিত বাস কাউন্টার বা স্টপেজ ছাড়া মাঝপথে যাত্রী ওঠানো-নামানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে কোনো ধরনের বাস পার্কিং করা যাবে না। বিআরটিসির বাসগুলো সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে সরাসরি নির্ধারিত জেলার উদ্দেশে যাত্রা করবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কল্যাণপুর ও গাবতলী ডিপোর বাসগুলো সরাসরি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিকে যাবে এবং ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর ডিপোর বাসগুলো যাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দিকে।
বাসগুলোকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে ছাড়তে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়া যাবে না। একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসের সিটের অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা ছাদে যাত্রী ওঠানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপদ ড্রাইভ নিশ্চিত করতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে বা শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার না করা, বাসে উচ্চস্বরে গান না বাজানো এবং উল্টো পথে গাড়ি না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ চালকদের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি বা দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবে না। ফিটনেসবিহীন বা যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত যানবাহন সড়কে নামানো যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
যাত্রী ও পথচারীদের প্রতিও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে ওঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের সময় ব্যক্তিগত মালামাল সতর্কতার সঙ্গে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনালে উপস্থিত হওয়া, রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করা এবং চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করার জন্য বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমই


